শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নির্বাহী আদেশে সই সম্পন্ন

শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেওয়ার  পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৫৯, ২১ মার্চ ২০২৫

শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেওয়ার  পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রক্ষণশীলদের ীর্ঘ দিনের একটি লক্ষ্য পূরণে এই আশে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প শিক্ষা বিভাগকে অপচয়মূলক এবং উদার আদর্শে কলুষিত বলে উপহাস করেন। অবশ্য, কংগ্রেসের সহায়তা ছাড়া ভেঙে দেওয়ার কাজটি সম্পূর্ণ করা যাবে না। তবে রিপাবলিকানরা বলেছে, তারা তা করার জন্য একটি বিল উপস্থাপন করবে। আর তাতে ডেমোক্র্যাটরা বাধা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে কংগ্রেস এই বিভাগ সৃষ্টি করেছিল।

আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিক্ষার ওপর রাজ্য ও স্থানীয় কমিউনিটিগুলোর কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
তবে কিভাবে তা কাজ করবে, সে সম্পর্কে আদেশে কিছু বলা হয়নি। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ অব্যাহত রাখবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, শিক্ষা বিভাগ ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থাপনা করা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু নির্দেশে বরং বিপরীত বিষয়টিই রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগের কাছে ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ পোর্টফোলিও তদারকির মতো স্টাফ থাকবে না। এতে আরো বলা হয়, আমেরিকান শিক্ষার্থীদের ঋণের বিষয়টি ব্যাংক দেখবে।
আদেশ সই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আমেরিকার শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার জন্য ওই বিভাগকে দায়ী করে বলেন, রাজ্যগুলো আরো ভালো কাজ করবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা বিভাগ ‘আমাদের জন্য ভালো কিছুই করছে না।’
শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন জানিয়েছেন, তিনি লাল ফিতা অপসারণ করবেন, রাজ্যগুলোকে ক্ষমতা দেবেন সেখানকার স্কুলগুলোকে সেরা বানাতে। তবে তিনি অত্যাবশ্যক পরিষেবা অব্যাহত রাখা, রাজ্যগুলোর সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কেভিন রবার্টস বলেন, ‘অনেক শক ধরে একটি ব্যর্থ ব্যবস্থায় করাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালা হয়েছে। এই বিভাগ শিক্ষায় বামধারাকে পুষ্ট করেছে। অথচ একইসময়ে শিক্ষার্থীরা স্থবির হয়ে ছিল, আমেরিকা অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
তবে আদেশের সমালোচনাও হচ্ছে। এনএএসিপির প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন বলেন, ‘এটা কয়েক লাখ আমেরিকান শিশুর জন্য কালো দিন। তারা মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য ফেডারেল তহবিলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিশেষ করে গরিব ও গ্রামের শিশুরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অথচ এসব শিশুর মা-বাবা ট্রাম্পকেই ভোট দিয়েছিলেন।’
বিরোধীরা ইতোমধ্যেই আইনগত চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা এটাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এযাবতকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
 

শেয়ার করুন: