
ছবি: সংগৃহীত
ছোট্ট শিশু আসিয়া মৃত্যুর সাথে লড়তে লড়তে অবশেষে সবার মন ভিজিয়ে চলে গেল চিরতরে। দিয়ে গেল ধিক্কার পুরুষ জাতি আর সমগ্র পৃথিবীকে। আমরা লজ্জিত আসিয়া। আমাদের মাথা অবনত।
কি বীভৎস! তোমার মৃত্যু নিয়েও চলল তিন চার দিন যাবত বিভ্রান্তি। ধর্ষিত হওয়ার পরও তোমার পরিত্রাণ মিলল না। তোমার ক্ষত-বিক্ষত ধর্ষিত ছোট্ট শরীর, মৃত্যু, এ সবকিছু নিয়েও হলো রাজনীতি, খবর বাণিজ্য ও ভিউ বাণিজ্য, মিথ্যা গল্প, সেলফি সহ আরো কত কি!
আমরা কিভাবে ক্রমাগত মরে, পঁচে যাচ্ছি? আমাদের নাসারন্ধ্রে দুর্গন্ধ ঢোকে না আজ। আমরা মনে হয় মৃত। আমাদের ইন্দ্রিয় পুরোপুরি নির্বোধ ও নির্বিকার। আবর্জনার নিচে আমরা নিমজ্জিত। মগজ গলে গিজগিজ করছে পোকা। আমাদের শকুনি দৃষ্টি তোমাকে গিলে খেলো। তুমি আমাদের ক্ষমা করো না। আমাদের টুটি চেপে ধরো। সমস্ত পুরুষ, সমাজ, রাজনীতি, দেশকে ক্ষতবিক্ষত করে দাও। অসভ্যতা আর অবিচারকে থুঃ থুঃ করো।
তুমি শুধু একা নাও আসিয়া, প্রতিদিন শত শত আসিয়া হায়েনার রোষানলে ব্যথিত হয়, রক্তাক্ত হয়। তুমি সমাজকে বলে যাও শুদ্ধ হতে। রাজনীতিকে বলে যাও কল্যাণকর হতে। আইন ও বিচার কে বলে যাও সৎ হতে। আর বাবা-মাকে, শিক্ষককে, আমাদের সবাইকে বলে যাও মগজে ও দৃষ্টিতে আলো ছড়াতে এবং ধর্মকে বলে যাও, তোমাকে অন্তত মানুষের মর্যাদা দিতে।
তোমার বা তোমাদের অসহায়ত্বে আমরা যৎ সামান্য বিবেকবান যারা, তারা এতটাই বিক্ষুব্ধ যে ভেতরটা পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। এবার আমরা অপরাধী হবোই হব। রাষ্ট্র যখন তোমাকে বাঁচতে দেয় না, তখন আমরাই রুখে দাঁড়াবো। ধর্ষকের লালায়িত চোখ আমরা উপড়ে ফেলবো। আমাদের ক্রোধের আর ঘৃণার আগুনে ঝোলসে দেবো ওদের রক্ত দৃষ্টি। তোমাদের আহাজারিতে যেন আর বিদীর্ণ না হয় ধরণী।
হে বিকলাঙ্গ সমাজ, বিবর্ণ দেশ, অচেতন মানুষ, অথর্ব শাসক, কবি সুকান্তের ভাষায় আমার প্রতিবাদ শুনে রাখো - “আদিম হিংস্র মানবিকতার আমি যদি কেউ হই, স্বজন হারানো শ্মশানে তোদের চিতা আমি তুলবই”।
লেখক: অভিনেতা।